স্বর্ণ ও রুপার বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুবাইকেন্দ্রিক উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এতে স্বর্ণ ও রুপার বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এ অচলাবস্থা মূল্যবান ধাতুর বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

স্বর্ণ ও রুপা বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র দুবাই। গত বছর বিশ্বের মোট স্বর্ণ সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এ শহরের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আফ্রিকা থেকে আসা আকরিক স্বর্ণ যেমন রয়েছে, তেমনি ইউরোপ থেকে এশিয়ায় পাঠানো স্বর্ণের একটি বড় অংশও দুবাই হয়ে যায়। সাধারণত যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে কার্গো হিসেবে এ মূল্যবান ধাতু পরিবহন করা হয়। তবে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় এ রফতানি এখন পুরোপুরি থমকে গেছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট জন রিড বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত হওয়ার পর স্বর্ণের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণেই ভারতের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন এসেছে। গত শুক্রবার প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণ লন্ডনের দরের চেয়ে ৫০ ডলার কমে বেচাকেনা হয়েছে। তবে সোমবার এ দাম লন্ডনের দরের সমান পর্যায়ে পৌঁছেছে।

স্টোনএক্সের বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান রোনা ও’কনেল বলেন, দুবাইয়ের এ সংকটে ভারত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ ভারত অভিমুখী মূল্যবান ধাতুর একটি বড় অংশ দুবাই হয়ে পাঠানো হয়। স্বল্পমেয়াদে ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলেও দীর্ঘ সময় এ অবস্থা চললে বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাবে।

বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আকাশপথে কোনো পণ্যই পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে আগে থেকেই কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পাওয়া অনেক স্বর্ণের চালান আটকে পড়েছে। এয়ারলাইনসগুলো এ মুহূর্তে মূল্যবান ধাতুর চেয়ে পচনশীল পণ্য পরিবহনে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রুপার বাজারেও এ সংকটের প্রভাব প্রকট। চীনে বর্তমানে রুপার মজুদ ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দর আরো অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও